Published: August 31, 2026

অনন্যা সরকার, কলকাতা: সাম্প্রতিক বন্যায় বিপর্যস্ত অবস্থা নেপালের। এরই মধ্যে এবার একটি বিশাল কালো পাথরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল (Viral) হয়েছে। ছবিটিতে দাবি করা হয়েছে যে, ৩১ টন ওজনের বিশ্বের বৃহত্তম শালগ্রাম শিলা মুক্তিনাথ ধামের কাছে পাওয়া গেছে। ছবিটিতে পাথরটিকে “ডাইনোসরের চেয়েও পুরোনো” বলে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে, এই তথ্য যাচাই করে (Fact Check) এই দাবিটি অসত্য বলে প্রমাণ করেছেন। ভাইরাল হওয়া ছবিটি আসলে, নেপালের মুস্তাং জেলার জোমসমে অবস্থিত প্রায় ২২-ফুট (৬.৭-মিটার) উঁচু শালগ্রাম শিলার একটি প্রতিরূপ। এটিকে সাম্প্রতিক বন্যার পর আবিষ্কৃত একটি প্রাকৃতিক শিলা হিসেবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে।
কোথা থেকে এল এই ভাইরাল ছবি?
ভাইরাল হওয়া ছবিটিতে জোমসমের ঘরপাজং গ্রামীণ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে কালিগণ্ডকী নদীর তীরে অবস্থিত একটি বিশাল শালগ্রাম পাথরকে দেখানো হয়েছে। নেপাল থেকে পাওয়া রিপোর্ট অনুসারে, এই অভিনব পাথরটি নেপাল একাডেমি অফ ফাইন আর্টসের সাথে যুক্ত ভাস্কররা একটি বিশাল প্রাকৃতিক পাথর খোদাই করে তৈরি করেছেন। এই প্রকল্পটির জন্য গত ২০ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী একটি ভাস্কর্য কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল। ৩৬ জনেরও বেশি ভাস্কর এতে অংশগ্রহণ করেন এবং কালিগণ্ডকী নদীর তীরবর্তী বিশাল স্থানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক বিষয়বস্তুর ওপর প্রায় ১৮টি ভাস্কর্য তৈরি করেন। এর মধ্যে শালগ্রাম শিলা ছাড়াও ভগবান শিব, বিষ্ণু, পার্বতী, বুদ্ধ এবং হিমালয়ের সাথে যুক্ত মূর্তি ছিল। এই বিশাল শালগ্রামের প্রতিরূপটি পরবর্তীতে ওই এলাকার একটি ধর্মীয় আকর্ষণে পরিণত হয়।
তাই ৩১ টন ওজনের শালগ্রামের গল্পটি পুরোপুরি কাল্পনিক নয়, তবে এর আসল ছবি এবং মুক্তিনাথের কাছে নতুন আবিষ্কারের মধ্যে যে সংযোগ তৈরি করা হয়েছে, সেটি মিথ্যা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেপাল থেকে ৩১ টন এবং ১৫ টন ওজনের দুটি শালগ্রাম শিলা অযোধ্যায় পাঠানো হয়েছিল। এই পাথরগুলো নেপালের কালিগণ্ডকী অঞ্চল থেকে বহন করে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অযোধ্যায় আনা হয়েছিল। তাই, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ৩১ টনের দাবিটি সম্ভবত শালগ্রাম-সম্পর্কিত পুরোনো তথ্যের সাথে নেপালের বর্তমান বন্যা ও জমসোমের দৈত্যাকার প্রতিরূপের ছবিকে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
নেপাল থেকে পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বন্যার সময় মুক্তিনাথের কাছে ৩১ টন ওজনের প্রাকৃতিক শালগ্রাম আবিষ্কার হয়েছে বলে কোনও নিশ্চিত তথ্য সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি। সুতরাং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায় ভাইরাল ছবিতে দেখানো বিশাল কাঠামোটি জোমসমে শিল্পীদের বানানো প্রায় ২২ ফুট উঁচু শালগ্রামের একটি প্রতিরূপ। এটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ৩১ টনের কোনো পাথর নয়।